টাইম নিউজ ডেস্কঃ অবশেষে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলা নীলুফার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে অপেক্ষার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় বিমানবন্দর থেকে দেলোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বেরিয়ে আসে রহস্য।

যেভাবে রহস্য উদঘাটন
পিবিআই জানায়, প্রাথমিকভাবে দেলোয়ার কোনোভাবেই ভিকটিম নিলুফার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক বা হত্যাকাণ্ডের বিষয় স্বীকার করছিলেন না। তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন বলে জানান। ফলে সেটিও খোলা যাচ্ছিল না।
দেশে আসার কিছুদিন আগে পাঠানো ওই ভয়েস মেসেজে নিহত লিলুফা হত্যা মামলার খোঁজ-খবর নিতে বলেন এবং মামলা শেষ করতে যদি টাকা পয়সাও লাগে সে ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে বলেন। দেশে আসলে সমস্যা হবে না এমন আশ্বাসেই তিনি ব্রুনাই থেকে বাংলাদেশে আসেন।
এরপর এ বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে দেলোয়ার মিজি লিলুফা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।
যে কারণে হত্যা
জিজ্ঞাসাবাদে দেলোয়ার মিজি জানান, নিহত লিলুফা বেগমের স্বামী ২০১৫ সালে মারা যান। বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। ২০১২ সালের দিকে ভিকটিমের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রীর কাজের সুবাদে তার সঙ্গে ভিকটিমের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। ২০১৭ সালে তিনি ব্রুনাই চলে গেলে ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের মধ্যে কথাবার্তা চলতে থাকে।
দেলোয়ার মিজি ২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল ২ মাসের ছুটিতে দেশে আসেন। দেশে আসার পর তিনি লিলুফার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। তখন লিলুফা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। তিনি ভিকটিম লিলুফাকে বিয়ে করবেন বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকলে নিলুফা তার বাড়িতে গিয়ে উঠার হুমকি দেন। দেলোয়ার মিজির বড় মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হলে লিলুফা সেখানে গিয়ে সম্পর্কের বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেবেন বলে হুমকি দেন।
পিবিআই প্রধান আরও বলেন, দেলোয়ার মিজি নিলুফাকে কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলেন। বিদেশে যাওয়ার আগেই তাকে বিয়ে করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। ভিকটিম লিলুফা ১৩ বছরের বড় হওয়ায় দেলোয়ার মিজি এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। তাই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৬ জুন নিলুফাকে বিয়ের কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য লঞ্চে রওনা দেন দেলোয়ার। প্রতিবেশী মুদি দোকানি জাহাঙ্গীরের নাম এবং ভিকটিমের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে লঞ্চের কেবিন বুকিং করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেলোয়ার এবং লিলুফা ১৬ জুন রাতে চাঁদপুর থেকে মিতালী-৭ লঞ্চের ৩য় তলার এস-৩০৯ নম্বর কেবিনে ওঠেন। লঞ্চ ছাড়ার পর রাত ১২টার দিকে তিনি লিলুফাকে ধর্ষণ করেন। পরে রাত দেড়টার দিকে বিয়ের বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তিনি নিলুফার গলা চেপে ধরে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
পিবিআই প্রধান বলেন, নিলুফার সঙ্গে তার সম্পর্কের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ভিকটিমের মোবাইল ফোনে থাকায় তিনি ভিকটিমের দুইটি মোবাইল ফোন নিয়ে বিদেশে চলে যান। দেশে ফেরার সময় সেগুলো সঙ্গে আনেননি দেলোয়ার। যেহেতু সেই মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার করা যায়নি, ফলে আলামতও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দেলোয়ার মিজিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
Leave a Reply