যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন জরিপ যে আভাস দিয়েছিল, ভোটের ফলাফলে সেটাই নিশ্চিত হলো। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ হাতছাড়া হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির। ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিদ্বেষ ছড়ানো, বিভেদ সৃষ্টিসহ নানা অপকৌশলের পরও ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষে রায় দিয়েছেন মার্কিন জনগণ। ডেমোক্র্যাটদের এই জয়ের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হলো, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর সহজ হবে না ট্রাম্পের জন্য।যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে বলা হয় প্রেসিডেন্টের প্রথম দুই বছরের কাজ নিয়ে জনগণের মূল্যায়ন। ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শুল্কনীতি, দুর্নীতির অভিযোগসহ নানা বিষয় ঘিরে জন-অসন্তোষ যে এই মূল্যায়নে বড় প্রভাব ফেলবে, তা বিভিন্ন জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশ্লেষকেরা আগে থেকেই বলে আসছিলেন। বেশির ভাগ জরিপে বলা হচ্ছিল, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে এই পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গেছে নির্বাচনের ফল। প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫ আসনে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি পেয়েছিল ২১৮ আসন। ডেমোক্র্যাটদের ছিল ২১৪টি। এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে গতকাল বুধবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টা) প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছেন ২২৫ আসন। রিপাবলিকানরা পেয়েছেন ১৩৮ আসন। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ২১৮টি আসন প্রয়োজন। ৭৩ আসনের ফলাফল ঘোষণা বাকি থাকতেই এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ পেরিয়ে গেছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনে ভোট হলেও সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫ আসনে ভোট হয়েছে। এই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য অন্তত ৫১টি আসন পেতে হয়। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের দখলে ছিল ৫৪টি আসন। ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির দখলে ছিল ৪৪টি। নির্বাচনের আগে সিনেটের চিত্র ছিল রিপাবলিকান পার্টি ৫৩ আসন, ডেমোক্রেটিক পার্টি ৪৫ আসন। এর বাইরে স্বতন্ত্র দুই সিনেটর সমর্থন দেন ডেমোক্র্যাটদের।দুই কক্ষেই পরাজয় ট্রাম্পের জন্য বড় একটি ধাক্কা। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আগামী জানুয়ারিতে শপথ নেবেন। এরপর প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা চাইলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবেন। তদন্তের আওতায় পড়তে পারে…
Leave a Reply