ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারিশেখ হাসিনা সরকারের পতন ও পলায়ন একটা যুদ্ধের বিজয়, কিন্তু বৃহত্তর যুদ্ধটা এতে শেষ হয়ে যায়নি। লড়াই আরও বেশি দীর্ঘ—সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র তৈরির পথে যাত্রা শুরু করা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা যেকোনো দলের সামনেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ থাকত—একটি ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনর্গঠন। আওয়ামী লীগের মাফিয়া দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে অকার্যকর করা হয়েছে যে অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় পৌঁছেছিল।অনেকে বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কিংবা নেপালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের তুলনা করেন। এই তুলনা যথাযথ নয়। বাংলাদেশের পরিস্থিতি বুঝতে হলে বরং তিউনিসিয়া কিংবা আরব বসন্তের মধ্য দিয়ে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা যেতে পারে। কারণ, ওই দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও দীর্ঘ সময় ধরে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে।একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র শুধু নির্বাচন বা সরকার পরিবর্তনের বিষয় নয়। এটি কতগুলো প্রতিষ্ঠান, নিয়মনীতি ও কাঠামোর সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও এখতিয়ারের মধ্য থেকে কাজ করতে হয়। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন সেই ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না। ফলে বর্তমান সরকারকে একই সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জনগণের বিপুল প্রত্যাশাও পূরণ করতে হচ্ছে।২জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। সাধারণ মানুষের কাছে গণতন্ত্রের প্রথম অর্থ অবাধ ভোটাধিকার। মানুষ এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা চায়, যেখানে নিজের পছন্দের প্রতিনিধি ও সরকার নির্বাচন করতে পারবে। স্থানীয় সরকারেও সেই অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। মানুষ আরও চায়, নির্বাচিত সরকার তাদের ভালো-মন্দের তদারক করুক। নাগরিকদের সচেতন অংশ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর…
Leave a Reply