বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদকঃ বুয়েনস এইরেস / ওয়াশিংটন: ফুটবলের নন্দনকাননে এবার নগ্ন হস্তক্ষেপ করল সাম্রাজ্যবাদী কূটনীতি। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যের লিপ্সা এবং ওয়াশিংটনের ক্ষমতার লড়াইয়ের শিকার হতে হলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলকে। সম্প্রতি উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্যে দাবি করা হচ্ছে—ইরানে সামরিক হামলার জন্য স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ না পেয়ে ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক খেলায় মেতে ওঠে। আর সেই কুটিল চক্রান্তের দাম মেটাতে হয়েছে কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্তের হৃদয় ভেঙে।
ইরান ইস্যু, স্পেনের না এবং ট্রাম্পের নোংরা কূটনীতি
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসনের অংশ হিসেবে ইরানে হামলা চালাতে স্পেনের কাছে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু স্পেনের স্পষ্ট অসম্মতির কারণে ব্যাকফুটে চলে যায় মার্কিন প্রশাসন। এরপরই স্পেনকে নিজেদের পক্ষে আনা এবং ইউরোপীয় রাজনীতিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন পাশেই টেনে নেয় তাদের বিশ্বস্ত মিত্র যুক্তরাজ্যকে।
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্ত্র ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ’ (মালভিনাস) বিতর্ককে ঢাল বানিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এক নজিরবিহীন ব্ল্যাকমেইলের ছক কষে। লক্ষ্য ছিল একটাই—স্পেনের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার বাহানায় আর্জেন্টিনাকে বলির পাঁঠা বানানো, যেন কোনোভাবেই ল্যাটিন আমেরিকার এই পরাশক্তি বিশ্বকাপ জিততে না পারে।
খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকি ও বাধ্য হওয়া ‘প্রেসিডেন্ট’
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা যখন ফকল্যান্ড দ্বীপে নিজেদের সার্বভৌমত্বের সমর্থনে ব্যানার উঁচিয়ে ধরেছিলেন, তখনই চক্রান্তের আসল জাল বিছানো হয়।
পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের গোপন সমঝোতায় আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়:
ইউরোপিয়ান লিগ বয়কট: নির্ধারিত ‘চিত্রনাট্য’ অনুযায়ী বিশ্বমঞ্চ থেকে সরে না দাঁড়ালে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) কোনো ক্লাবে খেলার সুযোগ দেওয়া হবে না।
ক্যারিয়ার ধ্বংসের চক্রান্ত: খেলোয়াড়দের ভিসা, আইনি জটিলতা এবং চুক্তি বাতিলের মাধ্যমে। খেলায় হারজিত থাকবে তার মানে ফুটবল বিশ্বকাপের মতো ফাইনালে এরকম নোংরা রাজনীতি শুধু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হয়ে থাকে।
Leave a Reply