জীবনের কাছে হার মানতে চাননি সাখাওয়াত হোসেন। কিন্তু চার বছর আগে অসুস্থতার কারণে তাঁর দুই পা অবশ হয়ে যায়। একপর্যায়ে কেটে ফেলতে হয় দুটি পা-ই। বদলে যায় জীবনের চেনা ছন্দ। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে থাকলেও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর আর্থিক অসচ্ছলতা তাঁকে ক্রমেই অসহায় করে তোলে।সংসারের হাল ধরতে দেড় বছর আগে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নংগরপাড়া থেকে গাজীপুরে আসেন সাখাওয়াত। ভেবেছিলেন, কোনোভাবে একটি কাজ জুটিয়ে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেবেন। কিন্তু দুই পা না থাকায় কাজ পাননি কোথাও। শেষ পর্যন্ত জীবিকা নির্বাহের জন্য বেছে নিতে হয় ভিক্ষাবৃত্তি। বর্তমানে জয়দেবপুর রেলস্টেশন ও গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ভিক্ষা করে চলে তাঁর সংসার। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার মুক্তারটেক নিয়ামত সড়কের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি।গাজীপুর বন্ধুসভার একটি ভালো কাজ।একটি হুইলচেয়ার সাখাওয়াতের চলাচলকে কিছুটা সহজ করতে পারত। কিন্তু সেই সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। ছয় মাস ধরে একটি হুইলচেয়ারের আশায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘুরেছেন সাখাওয়াত। পাননি কাঙ্ক্ষিত সহায়তা। অভাবের সংসারে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানোও ছিল কঠিন। নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের টাকাই যেখানে জোটে না, সেখানে সন্তানদের খাতা-কলম কিনে দেওয়া ছিল তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।সাখাওয়াতের এই বাস্তবতার কথা জানতে পেরে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে গাজীপুর বন্ধুসভা। প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি হুইলচেয়ার, পরিবারের জন্য এক মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার এবং দুই সন্তানের জন্য এক বছরের শিক্ষাসামগ্রী। ২৭ অক্টোবর এগুলো উপহার দেওয়া হয়।উপহার হিসেবে দেওয়া বাজারের মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আটা, তেল, আলু, পেঁয়াজ, লবণ, রসুন, চিনি, মুড়ি, ডিম, সুজি, সাবান, হলুদ, মরিচ, ধনে, মসলা, জিরাগুঁড়া, দুধ, ভিমবার, হুইল পাউডার, নুডলসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। শিক্ষাসামগ্রীর মধ্যে ছিল স্কুলব্যাগ, খাতা, পেনসিল, রাবার, পেনসিল বক্স, ক খ গ–এর গল্প, বর্ণ থেকে গল্প, এসো বাংলা শিখি প্রথম ভাগ, রংপেনসিল ইত্যাদি।গাজীপুর বন্ধুসভার একটি ভালো কাজ।হুইলচেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি…
Leave a Reply