টাইম নিউজ ডেস্কঃ বর্তমানে আলুর উচ্চমূল্য নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার মধ্য অবশেষে পাইকারিতে তা নেমেছে ৩০ টাকার নিচে। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে তার সুফল সেভাবে পাচ্ছেন না ভোক্তারা।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন সুপার শপগুলোর কোথাও ‘ছাড়’ দিয়ে ৩৭ টাকা, কোথাও ৪১ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে বহুল ব্যবহৃত সবজিটি। পাড়া মহল্লায় বা এলাকার বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা পর্যন্ত।
এমনকি যে বাজারে পাইকারি দর ২৬ টাকা, সেই বাজারেই কেবল ১০ থেকে ২০ মিটার দূরে দাম দেখা গেছে ৩৫ টাকা।
চাঁদপুরের পালবাজার ও বিপনীবাগ সহ শহরের বিভিন্ন দোকানে এখনো ৪০-৪৫ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হতে দেখা গেছে।
গত বছরের এপ্রিল থেকে চড়তে থাকা আলুর বাজার ঠান্ডা করতে সরকারি সব ‘টোটকা’ ব্যর্থ হওয়ার পর চলতি মৌসুমে তৈরি হয় আরো ‘বিস্ময়’। গত বছরের যে সময় নতুন আলুর দাম ছিল ২৫ টাকা, সেই সময়ে তা ৬০ এমনকি ৭০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছে ক্রেতারা।
শীতে আলু উঠার পর ক্রমে দাম কমতে থাকলেও এবার দেখা গেছে উল্টো চিত্র। শীতের শুরুতে ৫০ টাকায় নেমে পরে তা লাফ দিয়ে বেড়ে ছাড়ায় ৭০ টাকা।
সে সময় জানা যায়, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিতে আলুর উৎপাদন পিছিয়ে গেছে। আলুর আকার দেখে সেটি বোঝাও যায়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস জুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় আলুর আকার ছিল ছোট। বেশি দাম পাওয়ায় চাষিদের ছোট আলু বাজারে নিয়ে আসাই এর কারণ বলে উঠে আসে বিক্রেতাদের ভাষ্যে।
আড়তে ডায়মন্ড বড় আকারের আলু বিক্রি হচ্ছিল দাম ২৭ থেকে ২৮ টাকা কেজি দরে; মধ্যম আকারেরগুলোর দাম ছিল ২৬ টাকা কেজি দরে; ছোট আলুর কেজি ছিল ২২ টাকা। লাল আলু ২৫ টাকা কেজি দরে কিনতে দেখা যায় ক্রেতাদের।
এই দোকানে আলু বিক্রি হয় বস্তা হিসেবে।
“আলুর দাম আরও কমে পাইকারিতে ২০ টাকার নিচে নামবে মনে হচ্ছে। আজ রাতে আরও ২ টাকা কমবে জেনেছি। এতদিন আলুর কিছুটা সংকট ছিল, বাজারে আলু খুব বেশি উঠে নাই। এখন বাজারে আলুতে ভরপুর। দাম কমবেই।”
আলুর আড়তে বিক্রেতারা ধারণা করছেন পাইকারিতে দাম অচিরেই ২০ টাকার নিচে নেমে আসবে।

খুচরা পর্যায়ে তাহলে দাম এত কেন- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “ওরা (খুচরা ব্যবসায়ী) বেশি লাভ করে। কেউ কেউ ৪৫ টাকা কিংবা ৫০ টাকাও বেচে। তাদের ধরা উচিত।”
বিক্রেতারা বলেন, “দাম প্রতিদিন ১-২ টাকা করে কমতেছে। এক সপ্তাহের ভিতরে ৭-৮ টাকা কমে গেছে। আলুর দাম কমলেও খুচরা দোকানিরা দাম কমাচ্ছে না। ওরা কমালেই বাজার নিয়ন্ত্রণ হয়ে যাবে সম্পূর্ণ। মালের আমদানি বেশি তাই বাজার আরও কমার সম্ভাবনা আছে।”
আগের দিন পাইকারিতে দাম ছিল ২৮ থেকে ২৯ টাকা। আর আজ দাম ২৬ থেকে ২৭ টাকা।”
ক্রেতারা বলেন, “আলুর দাম নাকি কমতেছে শুনলাম। কিন্তু কমার তো প্রমাণ দেখি না। ৪৫ টাকা কেজি দাম চায়।”
দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে ৩৪ হাজার টন আলু আমদানির অনুমতি
ভরা মৌসুমেও দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে আবারো ভারত থেকে আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের ৪৯ আমদানিকারক বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রæয়ারি) ৩৪ হাজার টন আমদানির অনুমতি পেয়েছেন।
শনিবার (৩ ফেব্রæয়ারি) ভারত থেকে আলু আমদানি করা হতে পারে।
Leave a Reply