লেক কোমোর জল নীলাভ। ইউরোপের অন্যতম গভীর হ্রদ। কোমো এই হ্রদের কোলে বেড়ে ওঠা ঐতিহাসিক শহর, আর সেখানকারই ক্লাব ‘কোমা ১৯০৭’। হ্রদের নীলাভ জলের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের জার্সির রংও নীল। শুধু তা–ই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে ক্লাবটির অন্য এক নামেও ফুটেছে লেক কোমোর প্রতিচ্ছবি, ‘ই লারিয়ানি (লেক কোমোর বাসিন্দারা)’।রূপক অর্থে, কোমোর খেলোয়াড়েরা তাহলে সেই টলটলে জলরাশির বাসিন্দা। কিন্তু খেলোয়াড়দের থাকার জায়গা জল নয়, মাঠ। কল্পনাশক্তি তাই আরেকটু বাড়ানো যাক। কোমোর ঘর জিউসেপ্পে সিনিগাগলিয়া স্টেডিয়ামকে সেই ‘হ্রদ’ ধরা হলে গতকাল রাতে সেই হ্রদের এক বাসিন্দাকে নিয়ে ফেসবুকে সিরি ‘আ’র পোস্ট, ‘আ স্টেটমেন্ট টু ইউরোপ।’বার্তাটা কী, সেটা বলা হয়নি, দরকারও নেই। চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪–১ গোলে হারানোর এ ম্যাচে ২২ বছর বয়সী কারও দুই গোলের সঙ্গে আরও এক গোল করানোই আসল বার্তা—ইউরোপ দেখো, নিকো পাজ কতটা উঠে এসেছেন!তাতে একটা মধুর সমস্যাও যোগ হয়েছে। পাজের উত্থান তো দৃশ্যমান, কিন্তু মাঝমাঠে তাঁর খেলার গভীরতা কোন তলায় গিয়ে ঠেকেছে, তা আপাতত কেউ জানে না। যেমনটা ওই বয়সে কেউ জানত না লিওনেল মেসির ক্ষেত্রেও। দুজনেই আবার আর্জেন্টাইন। অন্য ভাষায়, আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সির পূর্বসূরি ও উত্তরসূরি। চলতি মাসে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচটা খেলার আগে থেকেই মোটামুটি ঠিক করা আছে, পাজই ধ্রুপদি সেই জার্সির উত্তরসূরি।কোমোর জার্সিতে নিকো পাজসেটা শুধু মেসির মতো পাজ বাঁ পায়ের ফুটবলার ও প্লেমেকার বলে নয়। ওই যে গভীরতার কথা বলা হলো, আসল মিলটা ওখানে। সোনালি চুল বাদ দিলে ইউনাইটেডের বিপক্ষে নীল জার্সির পাজকে দেখে কখনো কখনো ভুল করে মনে হয়েছে, বুঝি মেসি খেলছেন!মজাটা হলো, আর্জেন্টিনার জার্সিতেও আছে নীলের ছোঁয়া। মেসির উত্তরসূরি হিসেবে পাজ ১০ নম্বর জার্সিটি পেলে কেউ কেউ মজা করে বলতে পারেন, লেক কোমোর ১০ নম্বর বাসিন্দা এখন লেক আর্জেন্তিনোরও ১০ নম্বর বাসিন্দা! কেন এমন কথা, সেটার ব্যাখ্যায় ফেরা যাক বেনিনের বিপক্ষে মেসির সেই বিদায়ী ম্যাচে।আর্জেন্টিনার জার্সিতে এমন শুরু নেই…
Leave a Reply