মানুষ সামাজিক জীব। জীবনের চলার পথে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার জন্য সুহৃদ বা বন্ধুর প্রয়োজন অপরিসীম। তবে শুধু বন্ধু তৈরি করাই শেষ কথা নয়, আসল চ্যালেঞ্জ হলো সেই বন্ধুত্বকে জীবনের প্রতিটি বাঁকে টিকিয়ে রাখা।ইসলামি জীবনদর্শনে বন্ধুত্ব শুধু জাগতিক আড্ডা বা স্বার্থের আদান-প্রদান নয়, বরং এটি একটি আত্মিক ও ইমানি বন্ধন। শুধু নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়া বন্ধুত্বই ইহকাল ও পরকালে সুদৃঢ় থাকে।১. আল্লাহর জন্য ভালোবাসা বন্ধুত্বের প্রধান ভিত্তি হলো এতে কোনো দুনিয়াবি স্বার্থ বা লোভ না থাকা। যে বন্ধুত্ব শুধু খোদানুভূতির ওপর গড়ে ওঠে, সামান্য স্বার্থের ঘাটে তা নিমজ্জিত হয় না।মহানবী (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহ যেসব মানুষকে তাঁর আরশের বিশেষ ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, তাঁদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো সেই দুই বন্ধু—যাঁরা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবেসেছেন এবং সেই ভালোবাসার ওপরই একত্র ও বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৬০)’সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮০এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই। সে তার ওপর অত্যাচার করে না এবং তাকে বিপদে ফেলে রেখে যায় না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন ত্রুটি ঢেকে রাখবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার ত্রুটি ঢেকে রাখবেন।২. নীতিবান সঙ্গী বেছে নেওয়া বন্ধুত্বের আয়ু নির্ভর করে বন্ধুর আচরণের ওপর। সৎ মানুষের প্রভাবে জীবন সুন্দর হয়। আল্লাহ কোরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও।’ (সুরা তওবা, আয়াত: ১১৯)ক্ষতিকর স্বভাবের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক কালক্রমে অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাই সম্পর্কের শুরুতেই সততাকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।বন্ধু নির্বাচনে কোরআনের নির্দেশ৩. ভুলত্রুটি ক্ষমা করার মানসিকতা মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। দীর্ঘদিনের চলাফেরায় বন্ধুর কোনো কথায় বা ব্যবহারে কষ্ট লাগতেই পারে। সে ক্ষেত্রে ক্ষোভ পুষে না রেখে ক্ষমা করে দেওয়াই হলো সুন্দর চরিত্রের পরিচয়। সহনশীলতা বন্ধুত্বের আয়ু বাড়ায়।ইমাম লিখেছেন, বন্ধুর ভুলত্রুটিকে গোয়েন্দার মতো খুঁজে না বের করে তা ঢেকে রাখা এবং ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই হলো ইসলামি ভ্রাতৃত্বের…
Leave a Reply